বাস্তবতা হলো, কোনো অনুভূতির গভীরতা আপনি কখনোই সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারবেন না, যতক্ষণ না নিজে তার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেন।
আলহামদুলিল্লাহ, সেই অভিজ্ঞতার কিছুটা স্বাদ আমি পেয়েছি।
- বছরের পর বছর যেসব মা-বাবা তাঁদের সন্তানকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ান, তাঁদের অন্তরের অবস্থা কেমন হয়?
- যারা মা-বাবাকে হারিয়েছেন, তাঁদের শূন্যতার অনুভূতি কতটা গভীর?
- যেসব স্বামী-স্ত্রী যুগের পর যুগ একসঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন, তাঁদের একজন যখন চিরবিদায় নেন, তখন অপরজনের হৃদয়ে কী ঝড় বয়ে যায়?
- আর যারা ইসলাম গ্রহণের পর নিজের পরিবার, আপনজন কিংবা পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, সেই নওমুসলিম ভাই-বোনেরা কীভাবে নিজেদের স্থির রাখেন?
সুবহানাল্লাহ! আজ ভালোবাসার একটি ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমি সেই অনুভূতির সামান্য আভাস হলেও উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।
আমার মনে পড়ে যায় সেই সাহাবিদের কথা, যারা ইসলামের জন্য নিজেদের জান-মাল, পরিবার-পরিজন, এমনকি সন্তানের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি।
দ্বীনের প্রতি কত গভীর ভালোবাসা থাকলে মানুষ এমন ত্যাগ স্বীকার করতে পারে! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কত দৃঢ় ঈমানের শক্তি দিলে একজন মানুষ এভাবে সবকিছু বিলিয়ে দিতে সক্ষম হয়!
আজ ফিলিস্তিন–এর মানুষের দিকে তাকালে সেই ত্যাগ ও ঈমানের কিছুটা প্রতিচ্ছবি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
হয়তো আপনি ভেবেছিলেন আমি কোনো প্রেমের গল্প লিখতে বসেছি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, মহান আল্লাহ যাদের দ্বীনের বুঝ ও হিদায়াত দান করেন, তারা যদি কখনো দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভবও করেন, তবে সেই ভালোবাসা পাথর ফুঁড়ে বের হওয়া ঝর্ণার মতো—খাল, নদী, উপনদী অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মহাসমুদ্রে গিয়ে মিশে যায়; আর সেই মহাসমুদ্র হলো আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসা।
দুনিয়ার কোনো ভালোবাসাই সেই ভালোবাসার চেয়ে বড় ছিল না, নেই, আর কখনো হবেও না—ইনশাআল্লাহ।

0 Comments